কেউ মারা গেলে কী করবেন, আর কী করা উচিত নয়? ইসলামের আলোকে শোকের আদব
হঠাৎ ফোন আসে—“অমুক আর নেই।”
কয়েক সেকেন্ড যেন মাথা কাজ করে না। যাঁর সঙ্গে গতকাল কথা হয়েছে, যাঁকে কয়েকদিন আগেও দেখেছেন, আজ তাঁর নামের সঙ্গে “মরহুম” বা “মরহুমা” শব্দটি যুক্ত হয়ে যায়।
পরিবারের কেউ কাঁদছেন, কেউ দাফনের ব্যবস্থা করছেন, কেউ হাসপাতালের কাগজপত্র নিয়ে ব্যস্ত, আবার কেউ হয়তো নীরবে বসে আছেন। এমন সময়ে কী বলা উচিত, কী করা উচিত এবং কোন কাজগুলো থেকে বিরত থাকা উচিত—এগুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলাম শোককে অস্বীকার করেনি। প্রিয় মানুষকে হারালে চোখে পানি আসবে, বুক ভার হয়ে আসবে, মনে হবে মানুষটি আর দরজা খুলে ঘরে ঢুকবেন না, আর ফোন করবেন না, আর পাশে বসবেন না। কান্না নিজে ঈমানের দুর্বলতার প্রমাণ নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পুত্র ইবরাহীমের মৃত্যুতেও কেঁদেছিলেন। তিনি বলেছেন:
“চোখ অশ্রু ঝরায়, হৃদয় দুঃখিত হয়; কিন্তু আমরা এমন কথাই বলি যা আমাদের রবকে সন্তুষ্ট করে।”
— সহিহ আল-বুখারি, ১৩০৩
তাই শোকাহত কাউকে জোর করে “কাঁদবেন না” বলা উচিত নয়। বরং তাঁর পাশে থাকা, প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করা এবং আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য দু‘আ করাই উত্তম।
আর ও পড়ুনঃ শুক্রবারের ফজিলত
মৃত্যুর খবর শুনলে কী বলবেন?
মৃত্যুর সংবাদ শুনলে একজন মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাক্য হলো—
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘উন।”
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব।”
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে, তখন তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব।’”
— সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৬
এটি শুধু মুখে উচ্চারণ করার একটি বাক্য নয়। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের মনে করিয়ে দিই—আমরা যেমন আল্লাহর, তেমনি যাঁকে হারিয়েছি তিনিও আল্লাহর। পৃথিবীতে আমাদের অবস্থান সাময়িক এবং একদিন সবাইকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।
শোকের সময় কান্না করা কি নিষেধ?
না। স্বাভাবিক কান্না ও দুঃখ প্রকাশ করা নিষিদ্ধ নয়।
তবে কান্নার সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়, যা ইসলামের আদবের পরিপন্থী। যেমন—
- উচ্চস্বরে বিলাপ করা
- নিজেকে আঘাত করা
- কাপড় ছেঁড়া
- আল্লাহর ফয়সালার বিরুদ্ধে আপত্তির কথা বলা
- হতাশা ও অভিযোগে এমন কথা বলা, যা ঈমানের পরিপন্থী
কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর ওপর ভরসা ও সবর ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
মৃত্যুর সময় পাশে থাকলে কী করবেন?
কারও মৃত্যুর সময় পাশে থাকলে পরিবেশকে যতটা সম্ভব শান্ত রাখুন। অযথা আতঙ্ক ছড়ানো, চিৎকার করা কিংবা অপ্রয়োজনীয় আলোচনা না করে ভালো কথা ও দু‘আ করুন।
আবু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইন্তিকালের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর চোখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং উপস্থিতদের ভালো কথা ও দু‘আ করতে বলেছিলেন। কারণ ফেরেশতারা মানুষের কথার ওপর আমিন বলেন।
— সহিহ মুসলিম, ৯২০
তাই এমন মুহূর্তে মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দু‘আ করা উচিত।
মৃত ব্যক্তির জন্য বেশি বেশি দু‘আ করুন
মৃত ব্যক্তির জন্য আন্তরিকভাবে দু‘আ করা শোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
আপনি বলতে পারেন—
“হে আল্লাহ, তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, তাঁর কবর প্রশস্ত করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন।”
দাফনের পরও মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত ও দৃঢ়তার দু‘আ করতে বলা হয়েছে।
— সুনান আবু দাউদ, ৩২২১
তাই দাফন শেষ হওয়ার পর শুধু চলে না গিয়ে সম্ভব হলে মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করুন।
শোকাহত পরিবারের পাশে কীভাবে দাঁড়াবেন?
শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু “সমবেদনা রইল” বলে চলে আসা নয়।
অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের রান্না করার মতো মানসিক অবস্থাও থাকে না। বাজার করা, হাসপাতালে যাওয়া, কাগজপত্র সামলানো, সন্তানদের দেখাশোনা কিংবা দাফনের বিভিন্ন কাজ—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়।
জা‘ফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের সংবাদ পাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে বলেছিলেন। কারণ তাঁদের ওপর এমন বিষয় এসেছিল, যা তাঁদের ব্যস্ত করে রেখেছিল।
— সুনান আবু দাউদ, ৩১৩২
তাই সম্ভব হলে—
- পরিবারের জন্য খাবার পৌঁছে দিন
- প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করুন
- হাসপাতালে বা দাফনের কাজে সাহায্য করুন
- প্রয়োজন হলে যাতায়াতের ব্যবস্থা করুন
- শিশুদের দেখাশোনায় সহযোগিতা করুন
- অপ্রয়োজনীয় ফোন ও অতিথির চাপ কমাতে সাহায্য করুন
কথার চেয়ে কখনো কখনো বাস্তব সহযোগিতাই বড় সমবেদনা হয়ে ওঠে।
শোকাহত পরিবারকে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করবেন না
আমরা অনেক সময় কৌতূহলবশত এমন প্রশ্ন করি, যা পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।
যেমন—
- “কীভাবে মারা গেলেন?”
- “শেষ মুহূর্তে কী বলেছিলেন?”
- “ডাক্তার কী বলেছিল?”
- “আগে থেকেই কি সমস্যা ছিল?”
- “ঠিক কখন মারা গেলেন?”
প্রয়োজনীয় তথ্য জানার বিষয় আলাদা। কিন্তু শুধুই কৌতূহল মেটানোর জন্য একই ঘটনা বারবার বলতে বাধ্য করা ঠিক নয়।
মনে রাখুন, শোকাহত মানুষ আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য নয়; এই সময়ে তার প্রয়োজন সহমর্মিতা ও সহযোগিতা।
মৃত্যুর খবর যাচাই না করে ছড়িয়ে দেবেন না
কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে দেওয়া উচিত নয়।
প্রথমে খবরটি নিশ্চিত করুন। মৃত্যুর কারণ নিয়েও অনুমান, গুজব বা অপ্রমাণিত কথা ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
“শুনেছি আসলে এমন হয়েছিল”—এ ধরনের কথা মৃত ব্যক্তির সম্মান ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং পরিবারের কষ্ট আরও বাড়াতে পারে।
নিশ্চিত না হলে চুপ থাকাই উত্তম।
মৃত ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও প্রকাশে সতর্ক থাকুন
মৃত্যুর পর অসুস্থতার শেষ মুহূর্ত, মরদেহ, গোসল-কাফনের প্রস্তুতি কিংবা পরিবারের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও অপ্রয়োজনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়।
মৃত ব্যক্তির সম্মান এবং পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—
“এই ব্যক্তির জীবদ্দশায় তাঁর অনুমতি ছাড়া আমি কি এমন ছবি প্রকাশ করতাম?”
উত্তর যদি “না” হয়, তাহলে মৃত্যুর পরও সেই মর্যাদা রক্ষা করুন।
জানাজা ও দাফনে অংশ নিন
সম্ভব হলে মৃত ব্যক্তির জানাজার সালাতে অংশ নিন এবং দাফন পর্যন্ত সঙ্গে থাকুন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় জানাজায় অংশ নেয় এবং দাফন পর্যন্ত থাকে, তার জন্য দুই কীরাত সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি জানাজার সালাত পর্যন্ত থাকে, তার জন্য এক কীরাত।
— সহিহ আল-বুখারি, ১৩২৫
তাই সুযোগ থাকলে জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়া উচিত এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করা উচিত।
গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করুন
মুসলিম মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফন যথাযথ শরঈ নিয়মে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা জরুরি।
প্রয়োজনীয় আইনগত বা চিকিৎসাগত প্রক্রিয়া থাকলে তা সম্পন্ন করতে হবে। তবে অপ্রয়োজনীয় সামাজিক আয়োজন, দূরের আত্মীয়ের অপেক্ষা কিংবা অন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় কারণে দাফন বিলম্বিত করা উচিত নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাজা দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মৃত ব্যক্তির ঋণ ও আর্থিক দায় ভুলে যাবেন না
মৃত্যুর পর অনেক পরিবার দ্রুত সম্পত্তি ভাগাভাগির দিকে চলে যায়। কিন্তু এর আগে মৃত ব্যক্তির আর্থিক দায় ও অধিকারগুলো সঠিকভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
যেমন—
- মৃত ব্যক্তির ঋণ
- অন্যের পাওনা
- বৈধ ওসিয়ত
- সম্পদের হিসাব
- এরপর শরঈ উত্তরাধিকার বণ্টন
সূরা আন-নিসা ৪:১১–১২-এ উত্তরাধিকার বণ্টনের সঙ্গে ঋণ ও ওসিয়তের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই আবেগের কারণে তাড়াহুড়ো না করে বিশ্বস্ত আলেম বা যোগ্য উত্তরাধিকার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞের সহায়তায় বিষয়গুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা ভালো।
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করা যাবে কি?
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করার বিষয়েও হাদিসে অনুমোদনের প্রমাণ রয়েছে।
একজন সাহাবি তাঁর মৃত মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করলে তা তাঁর উপকারে আসবে কি না জানতে চাইলে রাসূলুল্লাহ ﷺ সম্মতি দিয়েছিলেন।
তাই মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করা যেতে পারে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট দিন, নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানকে “অবশ্যই করতে হবে”—এভাবে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আগে নির্ভরযোগ্য দলিল থাকা প্রয়োজন।
সংস্কৃতি ও ইসলামের বিধানকে এক করে ফেলবেন না
প্রতিটি পারিবারিক বা সাংস্কৃতিক রীতি যে হারাম—এমন কথা বলা ঠিক নয়। আবার কোনো সামাজিক রীতিকে ইসলামের বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবেও উপস্থাপন করা উচিত নয়।
যেমন—
“এটা না করলে মৃত ব্যক্তির ক্ষতি হবে।”
“এই দিনেই এটা করতেই হবে।”
“এটা করাই ইসলামের নিয়ম।”
এ ধরনের কথা বলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য শরঈ প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
শোকের সময় মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে দ্বীনের নামে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করা উচিত নয়, যার নির্দিষ্ট ভিত্তি নেই।
সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়—চুপচাপ পাশে থাকা
সব কষ্টের উত্তর দিতে হয় না। কখনো কখনো শুধু পাশে বসে থাকাও বড় সহায়তা।
আপনি বলতে পারেন—
“আমি আপনার পাশে আছি। কোনো প্রয়োজন হলে আমাকে বলবেন।”
শোকাহত মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যেতে বলবেন না। তাঁর কান্নাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং তাঁকে সময় দিন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করুন এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করুন।
অন্যের মৃত্যু আমাদের নিজেদের জন্যও শিক্ষা
একজন মানুষের মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারকেই নয়, জীবিত প্রত্যেক মানুষকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য মনে করিয়ে দেয়—আমাদের জীবনও সীমিত।
আজ আপনি অন্য কারও জানাজায় দাঁড়িয়ে বলছেন—
“আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।”
একদিন হয়তো অন্য কেউ আপনার জন্য একই দু‘আ করবে।
তাই কারও মৃত্যু দেখলে শুধু মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করেই থেমে না গিয়ে নিজের জীবনটাও একটু পর্যালোচনা করা উচিত।
নিজেকে প্রশ্ন করুন—
- আমার কোনো ঋণ বাকি আছে কি?
- কারও হক নষ্ট করেছি কি?
- কারও কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন কি?
- কোনো তাওবা পিছিয়ে দিচ্ছি কি?
- আমার সালাতের অবস্থা কেমন?
- আমার আমল কি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত?
অন্য একজনের মৃত্যু আমাদের জন্য নিজের জীবন সংশোধনের একটি শক্তিশালী স্মরণ হতে পারে।
সংক্ষেপে: কেউ মারা গেলে কী করবেন?
যা করবেন:
✅ “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘উন” পড়বেন
✅ মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করবেন
✅ শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবেন
✅ প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করবেন
✅ সম্ভব হলে জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন
✅ মৃত ব্যক্তির সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা করবেন
✅ ঋণ, পাওনা ও বৈধ ওসিয়তের বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন
✅ নিজের মৃত্যুর কথাও স্মরণ করে জীবন সংশোধনের চেষ্টা করবেন
যা করা থেকে বিরত থাকবেন:
❌ উচ্চস্বরে বিলাপ করবেন না
❌ নিজেকে আঘাত বা কাপড় ছেঁড়ার মতো আচরণ করবেন না
❌ আল্লাহর ফয়সালার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না
❌ যাচাই না করে মৃত্যুর খবর ছড়াবেন না
❌ মৃত্যুর কারণ নিয়ে গুজব বা অনুমান ছড়াবেন না
❌ অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবেন না
❌ মৃত ব্যক্তির মরদেহ বা ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়াবেন না
❌ শোকাহত পরিবারের ওপর অপ্রয়োজনীয় সামাজিক চাপ সৃষ্টি করবেন না
❌ দলিল ছাড়া কোনো সামাজিক রীতিকে ইসলামের বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবে প্রচার করবেন না
শেষ কথা
মৃত্যু জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত বাস্তবতাগুলোর একটি। আমরা প্রত্যেকেই একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব।
তাই কারও মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁর জন্য দু‘আ করি, তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াই, তাঁর সম্মান রক্ষা করি এবং নিজের জীবনকেও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে দেখি।
আল্লাহ আমাদের মৃত মুসলিমদের ক্ষমা করুন, তাঁদের প্রতি রহম করুন, তাঁদের কবর প্রশস্ত ও শান্তিময় করুন। শোকাহত পরিবারগুলোকে সবরে জামিল দান করুন। আর যখন আমাদের পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আসবে, তখন যেন ঈমান, তাওবা ও নেক আমলসহ তাঁর কাছে ফিরে যেতে পারি।
আমিন।